Chandmia Molla Degree College

প্রতিষ্ঠাতা নিয়ে কিছুকথা

চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর শামসুল হক মোল্লা

অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত)

গণিত বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।

জন্ম: ০১/০১/১৯৩৫ খ্রি.

মৃত্যু: ১৪/০১/২০২২ খ্রি.


দারিদ্র বিমোচন, মানব উন্নয়ন ও সমাজ সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার অজপাড়ায় অবস্থিত আলীরচর গ্রামের শিক্ষা বঞ্চিত মানুষেদেরকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত এবং এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নত করতে ১৯৯৫ খ্রি. ‍যিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজ। তিনিই প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, জ্ঞানতাপস, সমাজ সংস্কারক ও সাদামনের মানুষ প্রফেসর শামসুল হক মোল্লা।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শামসুল হক মোল্লা মৃত্যুর পূর্ব পযর্ন্ত অবসর গ্রহন করেননি। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ‍উজ্জীবিত ও সততার বিশ্বাসী এই মানুষটি জীবনের শেষ বয়সে পিতাকে হারিয়েছিন। পিতা-মাতাহীন অবস্থায় কঠিন দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করেও দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ী ও ত্যাগী মানুষটি বিশ্বাস-কর্ম-সততার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এতদূর আসতে পেরেছেন।


তিনি তাঁর কর্মীবনেই গ্রামের শিক্ষা বঞ্চিত মানুষের প্রাথমিক স্তর থেকে ঝরে পড়ার কারণ হিসেবে মানুষের আর্থিক সংকট, সামাজিক সচেতনতার অভাব, অপ্রতুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অনুন্নত যোগযোগ ব্যবস্থাকে চিহ্নিত করেছেন। তাই তিনি গ্রামের মানুষকে স্বশিক্ষায় আলোকিত এবং সাবলম্বি করে গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে বয়স্কশিক্ষা, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, কৃষিকাজে উন্ণয়ন, স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, বেকারত্ব দূরীকরণ, আবাসনসহ আর্থিক স্বচ্ছলতা আনয়নে বহুমূখী কর্মসূচী নিয়ে বিভিন্ন গ্রামের সমন্বয়ে ‘আদর্শ গ্রাম প্রকল্প’ চালু করেন। ২০০৮ সালে তিনি নিজ গ্রামকে আদর্শ গ্রামে রূপান্তর করেন এবং ২০০৯ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর, তিতাস ও হোমনা উপজেলার অজপাড়ায় ১০০ গ্রামের সমন্বয়ে ‘আদর্শ গ্রাম প্রকল্প’ এর কার্যক্রম চালিয়ে যান এবং কঠিন শ্রম ও উদ্দীপনায় ৩৫টি গ্রামের উন্নয়ন কর্মসূচী পূর্ণতা লাভ করে।


প্রফেসর শামসুল হক মোল্লা অবসর গ্রহণ করার পর নিজের পেনসনের টাকা দিয়ে ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে পিতার নামে আলীরচর গ্রামে চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজ, ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে মাতার নামে তায়মোস বেগম উচ্চ বিদ্যালয়, শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষায় গড়ে তোলার জন্য ২০০০ খ্রিস্টাব্দে আফরোজা হক কিন্ডার গার্টেন এবং ইসলামী শিক্ষাদানের জন্য তায়মোস-অফুলা ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও স্বাস্থসেবার জন্য হক ক্লিনিক, হক-গণ-গ্রন্থাগার, অধ্যাপক আবাসন, ছাত্রাবাস, খেলার মাঠ, মসজিত, ঈদগাহসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে আলীরচর গ্রামকে তিনি আদর্শ গ্রামে রূপান্তর করেন। শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষাদানের জন্য তিনি সপ্তাহে দুই দিন গণিত এবং ইংরেজির উপর চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজ ও তায়মোস বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতেন। মুরাদনগর, হোমনা ও তিতাস উপজেলার বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়েও ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের কর্মশালার আয়োজন করতেন যেন গ্রামের শিক্ষার্থীদের উক্ত বিষয়ের ভীতি হ্রাস পায়।


প্রফেসর শামসুল হক মোল্লা ১৯৩৫ সালে আলীচর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তিনি নানা বাড়ি থেকে ১৯৫০ মেট্রিকুলেশন প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে প্রথম বিভাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স পাশ করে ভৈরব আসমত আলী কলেজ অধ্যাপনায় যোগদান করেন। ১৯৭৩ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে যোগদান করেন। ২৮ বছর শিক্ষকতা করার পর ২০০০খ্রিস্টাব্দে তিনি অবসর গ্রহন করেন। যার মধ্যে ১৭ বছরই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট মেম্বার ছিলেন।


প্রফেসরশামসুল হক মোল্লা আমাদের দেশের মানুষ যিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, ধর্মনিরপেক্ষ-অসম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত, মানব কল্যাণেই যার ব্রত। যাাঁর মূল মন্ত্র ‘সততাই সকল কর্মকান্ডের একমাত্র চালিক শক্তি’।